যুক্তরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দূতাবাস বানাল যুক্তরাষ্ট্র

মুজিব সেনা নিউজ : যুক্তরাজ্যে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে এ যাবতকালের বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দূতাবাস বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর ডিজাইনাররা বলছেন, টেমস নদীর তীরে নির্মিত নতুন এই আমেরিকান চ্যান্সেরি বা দূতাবাসের ডিজাইনে একটি প্যারাডাইম শিফট বা দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
এটি হবে পুরোপুরি খোলামেলা একটি দূতাবাস। আপাত দৃষ্টিতে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এর চালাকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সব থাকবে গোপন বা লুকানো।

এতদিন আমেরিকানরা যত দূতাবাস বানিয়েছে সেগুলো সব দূর্গের মতো দেখতে ছিল। কিন্তু এবার একেবারে একটি পাবলিক পার্কের মাঝখানে স্বচ্ছ কিউবের মতো করে বানানো হয়েছে এই দূতাবাস।

ভবনটি বলে ওঠেনা, ‘গোয়েন্দারা এখানে কাজ করে!’ বা ‘দূরে থাক!’। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লণ্ডন শহরে একের পর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।

তার পরিবর্তে বরং ভবনটি দেখে কোনো আধুনিক যাদুঘর মনে হতে পারে। যাতে ভিসা ইস্যু করার অফিসের পাশাপাশি কোথাও হয়তো বেশ কিছু বাঙ্কারও লুকিয়ে আছে।

বিস্ফোরণরোধী দেয়ালের পরিবর্তে এর চারদিকে আছে পুকুরের মতো জলাশয়। যাতে আছে নবায়নকৃত জলের ঝর্ণা। নেটিভ হ্যামক এবং পরিখা। ছাদে আছে সোলার প্যানেল যা থেকে ভবনটিকে আলোকিত করার জন্য যথেষ্ট বিদ্যুত উৎপাদিত হবে। এবং অতিরিক্ত বিদ্যুত আবার গ্রিডেই ফিরে যাবে।

ভবনটিতে আছে তুষারাবৃত গ্লাস ওয়াকওয়ে, মার্কিন সংবিধান থেকে উৎসাহমূলক উদ্ধৃতি, নিয়ন ভাস্কর্য, রিক্লেইমড টিক বেঞ্চ, কর্নওয়েল গ্রানাইট, বর্জ্য পানি শোধনাগার এবং আকাশে ঝূলন্ত কয়েকটি বাগান। যেগুলোতে আছে আমেরিকার মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের উদ্ভিদরাজি।

আছে একটি পাব, জিম, পোস্ট অফিস এবং একটি অভিজাত নৌসেনা ব্যারাক। অনেক বলেন, এতে সিআইএ-র একটি স্টেশনও আছে। তবে তা নিশ্চিত নয়।

গতকাল বুধবার ভবনটি কিছুক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের দেখার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ ভবনটি উদ্বোধন করা হবে।

learnquranbd.com