আমিরাতের জাতীয় দিবসে বাংলাদেশীদের ব্যতিক্রমী আয়োজন

এম এনাম হোসেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিনিধি : আরব আমিরাত এবং বাংলাদেশ এক সাথে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর আরব আমিরাত স্বাধীনতা লাভ করে। আরব আমিরাতে থাকা বাংলাদেশীরা আরব আমিরাতের জাতীয় দিবসে নানাভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে বাংলাদেশীরা। এবারের ২ ডিসেম্বর আরব আমিরাতের জাতীয় দিবসেও ছিলো বাংলাদেশীদের ব্যতিক্রম আয়োজন। বিউটিফুল বাংলাদেশ শিরোনামে আমিরাতের শারজাহতে উদযাপিত হলো আরব আমিরাতের ৪৬তম জাতীয় দিবস। প্রকৌশলী মোহাম্মদ নওশের আলী, রফিকুল্লাহ গাযালি এবং জুলফিকার হায়দার খানের যৌথ উদ্যোগে বিউটিফুল বাংলাদেশের আয়োজনে প্রথমবারের মত আয়োজিত হলো আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশী ফটোগ্রাফারদের ছবি প্রদর্শনী। তিনজন মহিলা ফটোগ্রাফার সহ সাত জন ফটোগ্রাফার এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন।

বিউটিফুল বাংলাদেশ এর আয়োজক জুলফিকার হায়দার বলেন “বেশ কিছু বাংলাদেশী ফটোগ্রাফার আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফারদের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন আরব আমিরাতে, তার মধ্যে কেউ প্রফেশনাল কেউ বা সৌখিন। কিন্তু তাদেরকে বাংলাদেশী হিসাবে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত করার জন্য কোনও আয়োজন এখনো হয়নি, আমি নিজে একজন সৌখিন ফটোগ্রাফার, তাই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রথম বারের মত ফটোগ্রাফি এক্সিবিশনের আয়োজন করি। যেহেতু ২রা ডিসেম্বর আরব আমিরাতের জাতীয় দিবস তাই ফটোগ্রাফারদেরকে, “বাংলাদেশি ফটোগ্রাফারদের দৃষ্টিতে আরব আমিরাত” থিম হিসাবে ছবি দিতে অনুরোধ করা হয়।

অসাধারণ কিছু ছবি প্রদর্শিত হয় প্রদর্শনীতে। মোট সাতজন ফটোগ্রাফার মিলে আরব আমিরাতের সাতটি রাজ্যের প্রকৃতি, স্থাপত্য, সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। জুলফিকার হায়দার খান সহ আর যাদের ছবি প্রদর্শিত হয় তারা হলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, আলী মোকাদ্দেস পাঠান, এবতেসাম এলিয়াস, ইশরাত সুমনা, মাসুদ মল্লিক এবং শারমিন আহসান। এধরনের আয়োজন এখন থেকে নিয়মিত ভাবে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।আরব আমিরাতের ৪৬তম জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে আরো ছিল বিশাল এক ক্যানভাস যেখানে দুদেশের নাগরিক মিলে ছবি একে একাত্মতা প্রকাশ করে। ক্যানভাসের উদ্বোধন করেন শারজাহ রাজ পরিবারের সদস্য এবং লেখক ডঃ শেখ খালিদ আল কাসিমি এবং আর বি এস সেন্টারের চেয়ারম্যান সৈয়দ জুমা আল হারছি।

এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি ম্যাজিশিয়ান মামুন এর ম্যাজিক শো এবং সঙ্গীত শিল্পী কায়সার হামিদ সহ কয়েকজন গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শারজাহ ইসলামিক ব্যাঙ্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ আব্দুল করিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সি আই পি মোহাম্মাদ মাহবুব মানিক, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আইয়ুব আলি বাবুল প্রমুখ। সকলেই ভিন্ন ধরনের এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন এধরেনের আয়োজন দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

learnquranbd.com