জেরুজালেম নিয়ে ‘বিপজ্জনক’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প!

মুজিব সেনা নিউজ : জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে প্রবল রাজনৈতিক উত্তেজনায় কাঁপছে পশ্চিম এশিয়া। আজ বুধবার পবিত্র জেরুজালেম শহরকে স্বীকৃতি দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে আরব বিশ্বসহ বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে তেলের ব্যবসায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি জেরুজালেমকে ইসরাইলকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়, তাহলে পুরো বিশ্বকে ‘বিপজ্জনক পরিণতির’ দিকে ঠেলে দেবে।ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করেছে মিশর, জর্ডানসহ একাধিক আরব দেশ।

আরব লিগের প্রধান আহমেদ আবুল ঘেইত বলেছেন, জেরুজালেমকে ঘিরে ট্রাম্পের অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ‘বিপজ্জনক পরিণতির’ দিকে ঠেলে দেবে বিশ্বকে।

রয়টার্স, এপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় শামিল সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, জর্ডান ও তুরস্কের মতো একাধিক দেশ। ইউরোপের ফ্রান্স ও জার্মানি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

বহু প্রাচীন নগরী জেরুজালেম। দীর্ঘ সময় ধরে এই শহর ঘিরে ইজরায়েলি ও প্যালেস্তিনীয়দের দ্বন্দ্ব চলছে। ইসরায়েল সরকার তেল আবিব থেকে পরিচালিত হয়। যদিও তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী দিনে রাজধানী তারা জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাবে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এবিসি জানাচ্ছে, এখনই না হলেও তেল আবিব থেকে আমেরিকার দূতাবাস সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি, ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকেও স্বীকৃতি দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার।

অন্যদিকে এর চরম বিরোধিতায় শামিল হয়েছে প্যালেস্তিনীয় কর্তৃপক্ষসহ আরব দুনিয়ার বহু দেশগুলি। বিশেষ সূত্র থেকে সংবাদ সংস্থাটি জানাচ্ছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে জেরুজালেমে দূতাবাস সরানোর জন্য উদ্যোগ নিতে বলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসির খবর, তড়িঘড়ি এমন কোনও সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন দূতাবাসকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে ১৯৯৫ সালেই একটি বিল এনেছিল মার্কিন কংগ্রেস। তবে ট্রাম্পের আগে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেননি।

বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলির অন্যতম। এখানেই ইহুদি ধর্ম ও ইসলামের পবিত্র স্থান টেম্পল মাউন্ট ও আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত। শহরটি তাই ইহুদি , মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের কাছে বিশেষ পবিত্র স্থান। জেরুজালেমকে ঘিরে প্যালেস্তানীয় ও ইসরায়েলিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে বহু বছর ধরে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন আরব দুনিয়ার মাঝখানে ইহুদি দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে তৈরি করা হল তখন থেকেই এর সংঘাত চরম আকার নিয়ে ফেলে। শহরটির বিখ্যাত সৌধ আল আকসা মসজিদ ও টেম্পল মাউন্ট। এই ধর্মীয় স্থানটি ঘিরে বারে বারে প্যালেস্তানীয় বিদ্রোহী বনাম ইসরায়েল সরকারের পুলিশ সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়।

ইসরায়েল সরকার প্যালেস্তনীয়দের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। একইরকম অবস্থান তাদের বন্ধু রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। অন্যদিকে জাতিসংঘের বেশিরভাগ দেশ প্যালেস্টাইনকে স্বীকার করে নিয়েছে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি গড়তে শুরু করে। ১৯৮০ সালে জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা করে ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তখন তাদের সমর্থন করেনি। আশির দশকে গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাংকে প্রথম ইন্তিফাদা (গণ অভ্যুত্থান) হয়। রক্তাক্ত সেই পরিস্থিতি পার করে ১৯৯৩ সালে প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়। সেই শান্তি চুক্তি অনুসারে, প্যালেস্তানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে দাবি করে। হাজার বছরের ইতিহাসে, শহরটি কমপক্ষে দু’বার ধ্বংস হয়েছে। অন্তত ৪৪বার দখল এবং পুনর্দখল হয়েছে। জেরুজালেমকে ঘিরে মুসলিম প্রধান আরব দুনিয়ার আবেগ আবর্তিত হচ্ছে। কারন মুসলিমদের এটি প্রথম কেবলা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাতে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি না দেন তার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে মুসলিম দুনিয়ার।  তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান জেরুজালেম নিয়ে ‘সীমা লঙ্ঘন’ না করতে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে প্যালেস্তানীয়দের মধ্যে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানের খবর, জেরুজালেমকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থানে উদ্বিগ্ন প্যালেস্তানীয় কর্তৃপক্ষের প্রধান মাহমুদ আব্বাস। তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করছেন। আর গাজা শহরে ক্ষমতায় থাকা সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে যদি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মেনে নেয় তাহলে ফের তারা ‘ইন্তিফাদা ‘ বা গণ-অভ্যুত্থান শুরু করবে।

learnquranbd.com